ছয় ধরনের পণ্য ঘোষণার চেয়ে কম এনে তার আড়ালে অতিরিক্ত ১৪ হাজার কেজি প্যাডলক আমদানির ঘটনা ধরা পড়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে। উচ্চ শুল্কের প্যাডলক কম শুল্কের অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে গোপনে খালাসের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত চালানটি আটকে দেয় কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা। এ ঘটনায় ঢাকার মৌলভীবাজারের নেহাল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে ৪৮ লাখ টাকা জরিমানা এবং আরও ৫ লাখ টাকা বিমোচন জরিমানা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, চীন থেকে ৫২ হাজার ৫৮৫ মার্কিন ডলার মূল্যের ১ হাজার ২৭২ কার্টন পণ্য আমদানি করে নেহাল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। চালানটিতে পিলার, প্যাডলক, এডজাস্টেবল রেঞ্জ, শানপাথর, হ্যাকস ব্লেড, পেইন্ট ব্রাশ ও হ্যামার—এই সাত ধরনের পণ্য ঘোষণা করা হয়।
পণ্য খালাসের জন্য ২৩ জুলাই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এম এম এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়। তবে ঘোষণার অতিরিক্ত ও উচ্চ শুল্কের পণ্য থাকার তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটকে দেয় এআইআর কর্মকর্তারা। পরে কনটেইনার খুলে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষায় দেখা যায়, সাতটি পণ্যের মধ্যে ছয়টিই ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় কম রয়েছে। বিপরীতে প্যাডলক পাওয়া যায় ঘোষিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত ১৪ হাজার কেজি। এই পণ্যের ওপর শুল্ক-কর ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ।
কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিলার ঘোষণার চেয়ে ১ হাজার ৬৬০ কেজি, এডজাস্টেবল রেঞ্জ ১ হাজার ১১১ কেজি, শানপাথর ১ হাজার ৬৫৬ কেজি, হ্যাকস ব্লেড ১ হাজার ৬১১ কেজি, পেইন্ট ব্রাশ ১ হাজার ৪৩০ কেজি এবং হ্যামার ২ হাজার ৭৮৭ কেজি কম পাওয়া যায়।
অন্যদিকে একমাত্র প্যাডলকই ঘোষিত পরিমাণের চেয়ে ১৪ হাজার কেজি বেশি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে আমদানিকারক ২৬ হাজার ৩৬৬ কেজি পণ্য আমদানির ঘোষণা দিলেও কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার চেয়ে ৩ হাজার ৭৪৪ কেজি বেশি পণ্য পাওয়া যায়।
কাস্টমস সূত্র জানায়, চালানটির মোট শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৩৭৭ টাকা। ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের পার্থ্যকের কারণে এটিকে মিথ্যা ঘোষণা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, ঘোষিত ছয়টি পণ্য কম এনে তার আড়ালে তুলনামূলক বেশি শুল্কের প্যাডলক অতিরিক্ত আমদানি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে আমদানিকারক শুল্ক-কর কম পরিশোধ করে প্যাডলক খালাসের চেষ্টা করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির ঘটনায় কাস্টমস আইন অনুযায়ী চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার সম্প্রতি বিচারাদেশ জারি করেন। এতে নেহাল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে ৪৮ লাখ টাকা জরিমানা এবং পণ্য বিমোচনের জন্য আরও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। চালানটির খালাস প্রক্রিয়ায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এম এম এন্টারপ্রাইজের ভূমিকা নিয়েও কাস্টমসের নথিতে বিষয়টি উঠে এসেছে।