বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—দলটির সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।
দলটির ওই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘মির্জা ফখরুলের নাম দলীয় চেয়ারম্যান প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন।’ তিনি জানান, দীর্ঘদিনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির পছন্দ।
তবে বিএনপির আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারেক রহমানের ওপরই ন্যস্ত। তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম জানানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একজন নেতা অবশ্য মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুতিও শুরু করেছে। রোববার সকালে নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে দলটি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
এর আগে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করে।
সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে শেষ মুহূর্তে সংসদীয় সমর্থনে বড় কোনো পরিবর্তন না এলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার কথা।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজন হলে ওই দিন জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে। তবে মির্জা ফখরুলই একমাত্র বৈধ প্রার্থী হলে সংসদে ভোটের প্রয়োজন হবে না; বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে।
গত ২৪ জুলাই মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর পদটি শূন্য হয়। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য যাত্রা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি ২০১১ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন এবং ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে মির্জা ফখরুল ছয়বার কারাবন্দি হন। খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকা এবং তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করার সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম দৃশ্যমান রাজনৈতিক মুখ হয়ে ওঠেন। দীর্ঘদিন ধরে তাকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নানা আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বিএনপির ভেতরে মির্জা ফখরুলকে তুলনামূলক মধ্যপন্থী নেতা হিসেবে দেখা হয়। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় দলের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে প্রায় এক দশক পর বিএনপির মহাসচিব পদটি নতুন নেতৃত্বের জন্য উন্মুক্ত হবে। এ পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম দলীয় পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে সাময়িকভাবে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ করা হতে পারে। চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।