জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে এটি হবে তাঁর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণ। প্রায় দুই দশক পর বিএনপির কোনো দলীয় প্রধানকে সরকারপ্রধানের ভূমিকায় নিউইয়র্কে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি।
তারেক রহমানের সফর ঘিরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাজনৈতিক আগ্রহের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নেতাকর্মীদের নিউইয়র্কে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে দলীয় পর্যায়ে একাধিক কর্মসূচি ও বড় আয়োজনের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে উত্তর আমেরিকা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ভবনের সামনে বড় শান্তি সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সমাবেশে ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ চালানো হচ্ছে। নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতে নেতাকর্মীদের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সফরকে সামনে রেখে উত্তর আমেরিকার বিএনপি নেতাদের মধ্যে ধারাবাহিক বৈঠকও হয়েছে। ২৩ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ১১টি সভায় সফরকেন্দ্রিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। আগামী ৩০ আগস্ট সফরকেন্দ্রিক চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে শুধু সংবর্ধনা আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশার বিষয়ও প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে চায় দলটি। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, প্রবাসীদের বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স এবং দেশের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরও কার্যকর যোগাযোগের বিষয়গুলোও সফরকালে গুরুত্ব পেতে পারে।
দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ কারণে সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোকে ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক ও প্রবাসী মহলে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বক্তব্য এবং পরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া—দুটিই সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সরকারের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হলে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কাছে সফরটি সাংগঠনিকভাবেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর দলের চেয়ারম্যানকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিউইয়র্কে সামনে পাওয়ার সুযোগকে নেতাকর্মীরা বড় রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নেতাকর্মীদের নিউইয়র্কে নেওয়ার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনেরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সেপ্টেম্বরের যুক্তরাষ্ট্র সফর রাষ্ট্রীয় কূটনীতি, জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনীতি—তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রস্তুতি কতটা বিস্তৃত হয় এবং নিউইয়র্কে দলটির কর্মসূচিতে কতটা জনসমাগম হয়, এখন সেদিকেই নজর।