গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সফল দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিট (ব্যানুয়াউ-২২)-এর সদস্যদের জাতিসংঘ পদক প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিটটির পেশাদারিত্ব, কর্মদক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের দুর্ঘটনামুক্ত অপারেশন পরিচালনার স্বীকৃতি হিসেবে ফোর্স কমান্ডারের প্রশংসাপত্রও দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৩ জুলাই ডিআর কঙ্গোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় ব্যানুয়াউ-২২-এর জাতিসংঘ পদক প্রদান অনুষ্ঠান যথাযথ সামরিক মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল উলিসেস ডি মেসকিতা গোমেস। তিনি শান্তিরক্ষা মিশনের দায়িত্ব নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করায় ইউনিটটির সদস্যদের হাতে জাতিসংঘ পদক তুলে দেন।
এ সময় তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এ ইউনিটকে ডিআর কঙ্গোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সামরিক শৃঙ্খলা, অপারেশনাল উৎকর্ষতা এবং পেশাগত নিষ্ঠার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানেরও প্রশংসা করেন।
এয়ার কমডোর মো. এনামুল করিমের নেতৃত্বে অসাধারণ পেশাদারিত্ব, কর্মদক্ষতা এবং দুর্ঘটনামুক্ত অপারেশনাল রেকর্ড বজায় রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যানুয়াউ-২২ ইউনিটকে ফোর্স কমান্ডারের প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়। এছাড়া মিশনের লক্ষ্য অর্জনে বিশেষ অবদানের জন্য ইউনিটটির তিন সদস্য পৃথকভাবে একই সম্মাননায় ভূষিত হন।
বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ১৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিট ডিআর কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। ইউনিটটি আহত ও অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য আকাশপথে স্থানান্তর, আহতদের জরুরি উদ্ধার, রসদ পরিবহন, সেনা মোতায়েন ও প্রত্যাহার এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের পরিবহনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হেলিকপ্টার মিশনে অংশ নিচ্ছে।
গত ২২ বছরে ইউনিটটির ৬ হাজারের বেশি সদস্য শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ে তারা ৩৯ হাজার ঘণ্টারও বেশি নিরাপদ উড্ডয়ন সম্পন্ন করে কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই অপারেশন পরিচালনার রেকর্ড গড়েছেন। বিমান বাহিনীর মতে, এই সাফল্য আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং অপারেশনাল সক্ষমতার উজ্জ্বল স্বীকৃতি।