টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে পানির প্রবাহে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৩ ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে জলকপাটগুলোর ওপেনিং ৩ ফুট করা হয়।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়। তখন প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছিল। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে জলকপাটের ওপেনিং আরও ৬ ইঞ্চি বাড়িয়ে ১ ফুট করা হলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেকে দাঁড়ায়।
রবিবার সকালে হ্রদের পানির উচ্চতা ও উজান থেকে পানির প্রবাহ বিবেচনায় জলকপাটের ওপেনিং ২ ফুট করা হয়। পরে সকাল ১০টার দিকে তা আরও বাড়িয়ে ৩ ফুট করা হয়। বর্তমানে ১৬টি জলকপাট দিয়ে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি প্রতি সেকেন্ডে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৮টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৬ দশমিক ২ ফুট এমএসএল। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট এমএসএল। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার চেয়ে মাত্র ১ দশমিক ৮ ফুট নিচে রয়েছে হ্রদের পানি।
কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কাপ্তাই ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উজান থেকে বৃষ্টির পানি হ্রদে প্রবেশ করায় গত কয়েক দিনে পানির স্তর দ্রুত বেড়েছে। হ্রদের পানি ধারণক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসায় বাঁধের ওপর চাপ কমাতে এবং অতিরিক্ত পানি নিরাপদে নিষ্কাশনের জন্য পর্যায়ক্রমে জলকপাট খোলার পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট দিয়ে আরও প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে পানির প্রবাহের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে জলকপাট খোলার পরিমাণ বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে স্পিলওয়ের জলকপাট দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হওয়ায় কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের নদীতীরবর্তী এবং নিম্নাঞ্চলে পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে জোয়ারের সময় নদীতে পানির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকায় তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও চলাচলকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।